আগস্টে ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার ৪৬৪ নারী-শিশু

দেশে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধমূলক ঘটনা। এরমধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভুক্তভোগী হয়েছেন ৪৬৪ জন। যেখানে গত জুলাইয়েও এই সংখ্যা ছিল ২৯৫ জনে।
বুধবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে মহিলা পরিষদ।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু আগস্ট মাসেই মোট ৩৬৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন কন্যাশিশু ও নয়জন নারীসহ মোট ২২ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার। যারমধ্যে দুই জন কন্যাশিশু সহ দুই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এসব ছাড়াও আটজন কন্যাসহ মোট ১৩ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, গত জুলাই মাসের হিসেবে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের সংখ্যা বেড়ে ৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গতমাসের চেয়ে ধর্ষণের ভুক্তভোগী বেড়েছে ২৫ জন।
এদিকে, আগস্টে নিপীড়নের শিকার ২২ জনের মধ্যে ২১ জনই কন্যা শিশু। এছাড়া ১৯ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮ জনই কন্যা। এসব কারণে একজনের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, আগস্ট মাসে এক কন্যাশিশুসহ এসিডে দগ্ধের শিকার হয়েছেন দুই জন। পাশাপাশি যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫ জন। এরমধ্যে এক কন্যাসহ পাঁচজনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একমাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার মোট ১৯ জনের মধ্যে আটজনই কন্যা।
এছাড়াও পারিবারিক সহিংসতার শিকার সাত জন এরমধ্যে দুইজন কন্যা। আর গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুইজন। এরমধ্যে একজনকে হত্যা করা ছাড়াও এক গৃহকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আরও জানিয়েছে, আগস্ট মাসে বিভিন্ন কারণে পাঁচজন শিশুসহ মোট ৪০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি একমাসে তিন কন্যাসহ ২৯ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ের মাঝে ১১ জন কন্যাসহ ৩০ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং তিন শিশুসহ মোট পাঁচজন আত্মহত্যার প্ররোচণার শিকার হয়েছেন।
এদিকে, আগস্টে বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি। এছাড়া আরও সাতটি প্রতিরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিন শিশুসহ একমাসে সাইবার ক্রাইম অপরাধের শিকার হয়েছেন ৭ জন। সেই সঙ্গে আগস্টে ১৩ জন কন্যাসহ মোট ১৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি একজনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্নভাবে ১০ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মোট ২৯৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৮ শিশুসহ ৭৩ জন নারী।