‘রাশিয়ার চেয়েও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে চীন’

তাইওয়ানে আক্রমণ করলে চীনের ওপর রাশিয়ার চেয়েও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নকারী সুইস সংস্থা স্টেট সেক্রেটারিয়েট ফর ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মেরি-গ্যাব্রিয়েল ইনেইচেন-ফ্লেশ এ মন্তব্য করেন।
চীনের বিরুদ্ধে ইইউ নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করবে কিনা?, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফ্লেশ বলেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করব। তবে, চীনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার চেয়ে কঠোর হবে।’’
তিনি আর বলেন, ‘‘চীনে সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সম্ভবত ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডেও বেশি আলোচনা হবে। তবে আমি আশা করি এমন কিছুই হবে না।’’ খবর রয়টার্স।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন শুরু করে স্টেট সেক্রেটারিয়েট ফর ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স। যার অংশ হিসেবে চলতি মাস পর্যন্ত ৬.৭ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক সমমূল্যের রাশিয়ান আর্থিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি হিমায়িত করেছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি তাইওয়ান প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করা তাইওয়ান দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশে সামরিক তৎপরতা জোরদার করছে চীন। বিপরীতে তাইওয়ানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
তাইওয়ানে আক্রমণ চালালে পাল্টা হামলা এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে চীনকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে তাইওয়ানে কোনও ধরণের মার্কিন কর্মকাণ্ডকে ‘আগুন নিয়ে খেলার’ সামিল হবে বলে পাল্টা সতর্ক বার্তা দিয়েছে বেইজিং।
২৮ জুলাই দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে চলা এক কথোপকথনে তাইওয়ান নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন- ‘আগুন নিয়ে যারা খেলবে, তাদের পুড়তে হবে। আমি আশা করি মার্কিন পক্ষ এটি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে।’ জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন- বিরোধপূর্ণ দ্বীপটির মর্যাদা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই একতরফা কোনও সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।