শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চট্টগ্রাম সন্দ্বীপে ঘর ভিটা জায়গা সংত্রুান্ত বিরোধ কে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ২ পোগলদিঘা ইউনিয়নে গণসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জামায়াত ইসলামী নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল ড. ইউনূস-মোদি বৈঠক দুই দেশের জন্য ‘আশার আলো’: মির্জা ফখরুল স্বেচ্ছায় করে রক্তদান, বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামালের পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও মোনাজাত সন্দ্বীপ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন “মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের উন্মাদনা: আইন-আদালতের অবহেলার মাঝে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক” ভোলা চরফ্যাশন প্রতিপক্ষের হামলায় ১ জন নিহত ৬ জন আহত ময়মনসিংহের ক্লুলেস মামলার আসামী গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪ সেই গোসল মোশারফ করিমের ঈদের দিনের সবচেয়ে বড় উপহার

প্রকৃতির এক অমূল্য ঝাড়ুদার শকুন বিলুপ্তির পথে

অনলাইন ডেক্স
প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
প্রকৃতির এক অমূল্য ঝাড়ুদার শকুন বিলুপ্তির পথে । সংগৃহীত ছবি

প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পরিচিত শকুন আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। একসময় গ্রামে থেকে শহরের প্রান্ত পর্যন্ত শকুনের অবাধ বিচরণ ছিল। মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে শকুনের ভূমিকা ছিল অপরিসীম কিন্তু আজ এই মূল্যবান প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের একমাত্র শকুন পরিচর্যা কেন্দ্র।
বর্তমানে এখানে তিনটি বিলুপ্তপ্রায় শকুন নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছে। বন বিভাগ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে অসুস্থ শকুন উদ্ধার করে এখানে পাঠায়।
সিংড়া জাতীয় উদ্যানের বন বিট কর্মকর্তা গয়া প্রসাদ রায় জানান, সম্প্রতি ১৫ ও ২১ ডিসেম্বর দুই দফায় তিনটি অসুস্থ শকুন উদ্ধার করে রংপুর বনবিভাগের মাধ্যমে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব শকুন হিমালয় গৃধিনী প্রজাতির।
শকুনগুলোকে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে প্রকৃতিতে ফেরত পাঠানো হবে।
পরিবেশ ও বন্য প্রাণী গবেষক কাজী জেনিফার আজমিরী জানান, শীতকালে হিমালয় অঞ্চলে খাবারের সংকটের কারণে হিমালয় গৃধিনী প্রজাতির শকুন অনেক দূর পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে চলে আসে। তবে বড় বড় গাছের অভাব আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাবারের সংকটে তারা অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং মানুষের হাতে ধরা পড়ে।
তিনি আরো বলেন, ‘২০১৪ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় ২৪৯টি শকুন উদ্ধার ও চিকিৎসার পর প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
গত ছয় বছর ধরে উদ্ধার করা শকুনগুলোর পায়ে রিং পড়িয়ে অবমুক্ত করা হচ্ছে এবং ২০২২ সালে প্রথম বারের মতো ৩টি এবং ২০২৪ সালে আরো ৩টি হিমালয়ী গৃধিনীকে পরিচর্যার পর স্যাটেলাইট ট্যাগ সংযুক্ত করে অবমুক্ত করা হয়। ট্যাগিং এর তথ্য থেকে জানতে পেরেছি, হিমালয়ে যে অঞ্চলগুলোতে তারা বাসা বাঁধে বা বংশবৃদ্ধি করে বর্তমানে তারা আবাসস্থলে অবস্থান করছে এবং কিছু শকুন চীন, নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ফিরে গেছে। গত দুই দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের সংখ্যা ৯৯.৯৯% কমে গেছে । বাংলাদেশে আগে সাত প্রজাতির শকুন দেখা গেলেও বর্তমানে দুটি প্রজাতি রয়েছে -আবাসিক শকুন ও বাংলা শকুন। সারা দেশে এই শকুনের সংখ্যা মাত্র ২৬০টি । বাংলাদেশ আইইউসিএন এবং বন বিভাগ সমন্বয়ে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শকুনের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অমূল্য প্রাণীটিকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যথাযথ উদ্যোগ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা আরও বাড়াতে পারলে আমরা শকুনের বিলুপ্তি ঠেকাতে সক্ষম হব। এই বিলুপ্তপ্রায় পাখিটির সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা অস্বীকার করা যায় না। উদ্ধার হওয়া শকুনগুলো হিমালয় গৃধিনী প্রজাতির।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও খবর দেখুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর