ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে মুরাদনগর থানার ওসিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার মুরাদনগরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলী আদালতে উপজেলার বাখরনগর গ্রামের ইলেকট্রিশিয়ান মো. মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মো. মোমিনুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ মে’র মধ্যে পিবিআই কুমিল্লাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৪ মার্চ উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ নগরপাড় সিএনজি স্টেশনে মেহেদী হাসানের ভাই, সিএনজি চালক আবুল কালামের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়। খবর পেয়ে ভাইকে ছাড়াতে থানায় গেলে ওসি মো. জাহিদুর রহমান এক লাখ টাকা ঘুষ চান। মেহেদী হাসান ঘুষ দিতে রাজি না হলে ওসির সহযোগিতায় ২৪ জন আসামি তাকে ও তার ভাইকে মারধর করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মুরাদনগর থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমানকে। এছাড়া মুরাদনগর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি উবায়দুল্লাহ হক সিদ্দিকীসহ মোট ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৪ মার্চ ইফতারের আগে মুরাদনগর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে শ্রমিক নেতা আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক উবায়দুল্লাহ হক সিদ্দিকী। এরপর পুলিশ আবুল কালামকে আটক করে। ওই ঘটনায় ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবুল ফয়সাল বাদী হয়ে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন।
এদিকে, শ্রমিক নেতা আবুল কালামকে ছাড়িয়ে নিতে শ্রমিক ও পরিবহন সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে থানায় হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলাসহ কয়েকটি অভিযোগে মুরাদনগর থানার উপপরিদর্শক মো. আলী আক্কাস বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার কুমিল্লা পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ মে’র মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।