“মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের উন্মাদনা: আইন-আদালতের অবহেলার মাঝে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক”

মুরাদনগরের বিভিন্ন পাড়ায় বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের ক্র্যান্তিময় কার্যকলাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হওয়া হয়ে উঠেছে আতঙ্কের বিষয়, যেখানে গ্যাংয়ের সদস্যরা হাতেঘাত, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে।
উপজেলা সদর থেকে শুরু করে পাত্তরবাড়ী, দক্ষিণপাড়া, মধ্যপাড়া, উত্তরপাড়া, মাষ্টারপাড়া, নিমাইকান্দি, চৌধুরীকান্দি, নয়াকান্দি ও রহিমপুর—প্রায় ১২টি গ্যাং বর্তমানে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনগণের মতে, সামান্য কথাকাটাকাটি বা ব্যক্তিগত বিরোধে এই কিশোররা জোটবদ্ধ হয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতিকে আরও খোলামেলা করে তোলে।
একদল কিশোর গ্যাংয়ের মারামারি ঘটনার পর দেশীয় অস্ত্রসহ দাওয়াদেড়ার মাঝে রাস্তায় প্রচণ্ড আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বহু দোকানপাল ও পথচারী ভয় পেয়ে রাতে নির্দিষ্ট রুট ছাড়াই চলাফেরা করতে পারেন না। দোকানপালদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকান্ডের কারণে ব্যবসা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কারণ যে কোনও মুহূর্তে তাদের তালা ভাঙতে পারে।
অনান্য পাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই ও মাদক পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সময় তারা নানাবিধ সমস্যা ও হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার কারণে ভবিষ্যতে স্কুল-কলেজে পাঠানো বন্ধ করার আশঙ্কাও রয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, “আমরা কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব শিগগিরই টহল জোরদার করা হবে এবং যারা অপরাধে জড়িত, তাদের আইনকানুনের আওতায় আনা হবে।”
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহলের জন্য আবেদন জানাচ্ছে। তবে, রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও গ্যাং লিডারদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে মুরাদনগরের নিরাপত্তা অবস্থা আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।