এখন রাজনৈতিক মাঠে খেলার সুযোগ হয়ে গিয়েছে : রাঙ্গুনিয়ায় হুমাম কাদের

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক দর্শক সমাগম এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫ টায় রাজানগর আরএবিএম হাইস্কুল মাঠে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়।
ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় জনপ্রিয় শীর্ষ দুই ফুটবল ক্লাব ইব্রাহিম চৌধুরী ফুটবল একাদশ ও ফাহিম প্রবাসী ফুটবল একাদশ।
প্রচুর দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল খেলাটি নির্ধারিত সময় ড্র হয় ০-০ গোলে। ফলে জয়-পরাজয় নিষ্পত্তিতে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ফাহিম প্রবাসী ফুটবল একাদশের এক প্লেয়ারের শেষ বলটি গোল মিস করায় ১-০ গোলে শিরোপা লাভে কাঙ্ক্ষিত জয় পেয়ে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয় ইব্রাহিম চৌধুরী ফুটবল একাদশ।
শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের এ খেলায় অংশ নেয় ১৬টি দল। ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইব্রাহিম চৌধুরী ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও ফাহিম প্রবাসী ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে রানার আপ ট্রফি তুলে দেন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তন্ময় ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
রানীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও ছাত্রনেতা রেজাউল করিম, শরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী ও ওমর ফারুকের যৌথ সঞ্চালনায় ফাইনাল খেলার উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা পরিদর্শক এম আতাউল্লাহ সম্রাট,
প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুফ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি ওয়াকিল আহমদ তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল, অর্থ সম্পাদক ইউছুপ কামাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ, ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেছারুল হক পেয়ারু, সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল আলম জসিম, রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন নসু, জেলা যুবদল নেতা এবিএম সাইফুদ্দীন, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, যুবদল নেতা ইমরুল হাসান, জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, নিজাম উদ্দীন, ইউছুপ কামাল, খোরশেদ আলম, টিম ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, যারা আমার বাবার নামে এই খেলা আয়োজন করেছেন, তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার বাবাকে আপনারা যে সম্মান দিয়েছেন তা আমার পরিবার ভুলতে পারবেনা। আজকে যারা খেলা খেলছেন, তাদের ভাগ্য খুব ভাল।সবার একটা স্বপ্ন থাকে যে একদিন দেশের জন্য হলেও খেলবে। আমার কিন্তু সেই সুযোগ কোনদিন হয়নি, ঐ স্বপ্ন আমি কোনদিন দেখিনি যে দেশের জন্য খেলা করবো। তবে এখন সুযোগ হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মাঠে খেলা করার। আশাকরি এ মাঠে যখন নেমেছি, একলা আমাকে কখনো দেখবেন না।
তিনি আরও বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ব্যাপারে গত ১৬ বছরে আ. লীগের অনেক ধরনের কথা বলেছে। বিএনপিও বাবার পক্ষে অনেক কথা বলেছে। আজকে মন খুলে রাত্রের বেলা কাঁদতে পারবো। প্রথমবারের মতো একটি মঞ্চে দাড়িয়ে আব্বার চেহারা দেখতে পাচ্ছি, নিচে বড় করে লেখা ‘শহীদ’। এটা আপনাদের থেকে আমার প্রথম পাওয়া। আপনারাই আমার বাবাকে ‘ভাইজান’ হিসেবে ডাকতেন এবং এই পরিচয়টা আপনারাই দিয়েছেন তাঁকে। আপনাদের এই ভাতিজাকেও আপনারই দেখে রাখবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।
খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,দু’দলই চমৎকার ফুটবল খেলেছে। তাদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যোক খেলোয়াড়রা তাদের ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তবে অধিকাংশ খেলোয়াড় বল নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করলেও বল বাউন্স করেছে বেশি। মাঠটি সংস্কারে আমাদের সুদৃষ্টি থাকবে।