মুরাদনগরে শ্রমিক গ্রেপ্তার ও মামলার প্রতিবাদে বাস চালকদের ধর্মঘট

কুমিল্লার মুরাদনগরে পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার এবং বাস মালিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করেছেন বাস চালকরা।
বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ বাস স্টেশন থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ থাকে। কুমিল্লা জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কোম্পানীগঞ্জ শাখার ডাকে এ ধর্মঘট পালন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী তিশা ও গোমতী, চট্টগ্রামগামী প্রান্তিক, হানিফ, বিআরটিসি, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী রয়েল সুপার, ফারজানা, সুগন্ধা, ফারহানা ট্রান্সপোর্টসহ সব বাস বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জ বাস-মালিক সমিতির নিয়োগপ্রাপ্ত লাইনম্যান আবুল কালামের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় ‘ছাত্র সমন্বয়ক’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার মুক্তির দাবিতে শ্রমিকরা থানার সামনে বিক্ষোভ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ছাত্র সমন্বয়ক পক্ষ থেকে পরিবহন শ্রমিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের দাবি, মিথ্যা মামলা দিয়ে শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। শ্রমিক আল-আমিন বলেন, “আমরা শ্রমিক মানুষ, পরিশ্রম করেই সংসার চালাই। কিন্তু মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে তো সহ্য করা যায় না। আমরা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই, অন্যথায় কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।”
রয়েল সুপার পরিবহনের মালিক জহির খান বলেন, “বাস চালানোর দায়িত্ব শ্রমিকদের। ঈদের সময় যাত্রী দুর্ভোগের কথা ভেবে আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা হয়রানির প্রতিবাদে ধর্মঘট করছে।”
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কোম্পানীগঞ্জ শাখার সভাপতি হাজী ইদ্রিস বলেন, “ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিক ধর্মঘটের খবর পেয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”