শেখ হাসিনার বিদেশ সফর ও ডিগ্রি নিয়ে দুদকের তদন্ত

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসবের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অর্থ পাচার ও দুর্নীতিসহ শতাধিক মামলা হয়েছে। এবার তার বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করছে দুদক।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা প্রতিবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যেতেন, সঙ্গে থাকত ‘বিশাল সফরসঙ্গী দল’। ২০১৫ সালে তিনি ২২৭ জনের একটি দল নিয়ে নিউইয়র্ক সফর করেন, ২০১৪ সালে ছিলেন ১৭৮ জন, আর ২০১৩ সালে ১৩৪ জন।
২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮টি ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। দুদকের তথ্যমতে, এসব সফরে শেখ হাসিনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করেন।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সফরের সময় তিনি ফিনল্যান্ডে দুই দিনের যাত্রাবিরতি করেন, যেখানে ল্যান্ডিং চার্জ ও সফরসঙ্গীদের খরচ বাবদ অতিরিক্ত সাত কোটি টাকা ব্যয় হয়। এছাড়া ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিমানের কাছে সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।
দুদক অভিযোগ তুলেছে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে ‘মানদণ্ড ভঙ্গ করে’ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি সংগ্রহ করেছেন।
নথিতে বলা হয়েছে, ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস, এবং ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া তার ডিগ্রিগুলো ভুয়া এবং রাজনৈতিক চুক্তির বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। সেদিনই তিনি ভারতে পালিয়ে যান, তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যেরাও দেশের বাইরে চলে যান।