সারাদেশ

উচ্ছেদের পরও ফের দখল—গোপালগঞ্জ মেডিকেল এলাকায় অবৈধ দোকান, দুর্ভোগে রোগী-স্বজন

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আবারও অবৈধ দখলে চলে গেছে। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা।

ফলে সড়কটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনে বিলম্ব ঘটায় বাড়ছে জীবনঝুঁকি।

গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মাঝ দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি রোগী স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন স্ট্রেচার কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে করে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে রোগী নেওয়া হয়।

কিন্তু সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে পাঁচ মিনিটে পথ পাড়ি দেওয়া যেত, সেখানে এখন সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। জরুরি মুহূর্তে এই বিলম্ব রোগীর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে ফলের দোকান, খাবারের হোটেল ও নানা অস্থায়ী স্টল। অনেক ক্ষেত্রে দোকানের বর্ধিতাংশ সড়কের ভেতর পর্যন্ত চলে এসেছে। এতে চলাচলে আরও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

এর ফলে প্রায়ই সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। এই জটে আটকে পড়ছে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন। এতে রোগী পরিবহনে বিলম্ব বাড়ছে।

একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এটি হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায়ই দেখি অ্যাম্বুলেন্স আটকে আছে। এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”

আরেকজন পথচারী বলেন,
“রাস্তা যেহেতু প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত, তাই মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে চার লেনের সড়ক করা হলে চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। তবে নিয়মিত নজরদারির অভাবে কিছুদিন পরই দখলদাররা আবার ফিরে আসে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে একই চিত্র বারবার ফিরে আসছে।

সচেতন মহলের মতে, কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না। সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *